ওয়ারিশ সনদ বা উত্তরাধিকার সনদ (Succession Certificate) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল, যা নিশ্চিত করে মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারী কারা। সাকসেশন অ্যাক্ট ১৯২৫ এর ধারা ৩৭০-৩৮৯ এ সাকসেশন সার্টিফিকেট এর ব্যপারে বলা আছে। যদি উত্তরাধিকারদের মধ্যে কেউ নাবালক থাকে তবে একই আদালত থেকে আবেদনের মধ্যমে তার আইনানুগ অভিভাবক নির্ধারণ করা যায়। আইনে সাকসেশন সার্টিফিকেট গ্রহণের জন্য আবেদনের কোনো সময়সীমা নির্দিষ্ট করা নেই। এই সনদ দুইভাবে জারি করা হয়, যা নির্ভর করে আপনি কোন উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করতে চান:
১. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে (সাধারণ ব্যবহারের জন্য):
সাধারণত সম্পত্তি ভাগ-বন্টন, নামজারি (Mutation), এবং বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি কাজে প্রমাণের জন্য এই সনদ ব্যবহার করা হয়। এটি পেতে নিম্নলিখিত স্থানে যোগাযোগ করতে হবে:পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন এলাকায়:
- মেয়র/কাউন্সিলর অফিস:
কাউন্সিলর বা মেয়র যাচাই-বাছাই শেষে এই সনদ জারি করেন।
- পল্লী এলাকা (ইউনিয়ন পরিষদ):
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে।
চেয়ারম্যান এটি যাচাই করেন এবং স্বাক্ষরিত সনদ জারি করেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (সাধারণত যা লাগে):
- আবেদনকারীর পরিচয়পত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন)।
- মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ (Death Certificate)।
- আবেদনপত্রে সকল ওয়ারিশের নাম, ঠিকানা ও সম্পর্ক উল্লেখ।
- অন্যান্য ওয়ারিশদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনপত্রের ফটোকপি।
- স্থানীয় ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ (ক্ষেত্র বিশেষে)।
২. আদালত থেকে (বিশেষত টাকা বা মূল্যবান বস্তুর জন্য):
যখন মৃত ব্যক্তির ব্যাংকে জমানো টাকা, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার বা অন্যান্য মূল্যবান সিকিউরিটিজ দাবি করার প্রয়োজন হয়, তখন আদালতের মাধ্যমে উত্তরাধিকার সনদ (Succession Certificate) বা এডমিনিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (Administration Certificate) নিতে হয়।কোথায় পাওয়া যায়:
সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা জজ আদালতে (District Judge Court) যথাযথ কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হয়। এ আবেদনে অবশ্যই মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময়, বাসস্থান, সব বৈধ উত্তরাধিকার, ঋণ এবং সম্পত্তি; যে জন্য সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছে তার সস্পূর্ণ বিবরণ থাকতে হবে।প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (সাধারণত যা লাগে):
- চেয়ারম্যান বা কমিশনার কর্তৃক ওয়ারিশান সার্টিফিকেট।
- সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা চেয়ারম্যান অফিস বা কমিশনারের কাছ থেকে মৃত্যুর সনদপত্র (ডেথ সার্টিফিকেট)।
- যদি ব্যাংক থেকে মৃত ব্যক্তির টাকা উত্তোলন সম্পর্কে হয়, তাহলে মৃত ব্যক্তি ব্যাংকে কত টাকা রেখে গেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে একটি সনদ (ব্যালান্স কনফারমেশন লেটার) উঠাতে হবে।
এ আবেদন করার পর আদালত থেকে উত্তরাধিকার সনদের আবেদন মঞ্জুর করলে কোর্ট ফি দাখিল করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি ব্যাংক থেকে কত টাকা ওঠানোর জন্য আবেদন করছেন, তার ভিত্তিতে কোর্ট ফি নির্ধারিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে কোনো কোর্ট ফি দিতে হয় না।কিন্তু ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত এক শতাংশ কোর্ট ফি দিতে হয়। আবার এক লাখ এক টাকা থেকে যেকোনো পরিমাণ অর্থের ওপর দুই শতাংশ কোর্ট ফি জমা দিতে হয়।
পদ্ধতি:
- আবেদনকারীকে জেলা জজ আদালতে লিখিত দরখাস্ত পেশ করতে হবে।
- আদালত সাধারণত ৩ মাস মেয়াদে সনদ জারি করার অনুমতি (Probate) দেন।
- প্রয়োজনীয় ফি জমা দেওয়া, আবেদন যাচাই এবং শুনানির পর আদালত এই সনদ জারি করেন।
- এটি পেতে সাধারণত বেশি সময় লাগে এবং আইনি প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল।

0 Comments